অফিসে বসেই কি ত্বকের ক্ষতি হচ্ছে?

লাইভ ডেস্ক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ণ
অফিসে বসেই কি ত্বকের ক্ষতি হচ্ছে?

দিনের অনেকটা সময় কাটে অফিস। বিকেল হতে না হতেই ত্বক শুষ্ক আর ক্লান্ত লাগে? অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার অফিসের বাতাসই।

আধুনিক বেশির ভাগ অফিসই এখন পুরোপুরি এসি নির্ভর। জানালা বন্ধ, বাইরের বাতাস ঢোকার সুযোগ কম। এই পরিবেশে বাতাস বারবার ঘুরে ব্যবহার করা হয়। এতে ধীরে ধীরে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। সাধারণভাবে ত্বক ভালো রাখতে ঘরের আর্দ্রতা ৩০-৫০ শতাংশ হওয়া দরকার। কিন্তু অফিসে তা অনেক সময় নেমে আসে ১০-২৫ শতাংশে। ফলে বাতাস হয়ে ওঠে খুব শুষ্ক।

এই শুষ্ক বাতাস ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা টেনে নেয়। ফলে ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ, টানটান আর সংবেদনশীল। অনেকেই মনে করেন, এটি তাঁর স্বাভাবিক ত্বকের সমস্যা। আসলে তা নয়, পরিবেশের কারণেই এমনটা হয়।

শুধু ত্বক নয়, এই বাতাস শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলে। অফিসে থাকা কার্পেট, কাঠের ফার্নিচার, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ার মেশিন, এসব থেকে ধীরে ধীরে নানা ধরনের ক্ষতিকর কণা বাতাসে মিশে যায়। আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক থেকেও তৈরি হয় দূষণ। যেহেতু বাতাস বাইরে বের হতে পারে না। তাই এসব উপাদান ঘরের ভেতরেই জমতে থাকে।

বিশেষ করে প্রিন্টার ও ফটোকপিয়ার মেশিন থেকে খুব সূক্ষ্ম কণা বের হয়, যা আমরা চোখে দেখি না। কিন্তু এগুলো শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের পরিবেশে থাকলে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা, গলা শুকিয়ে যায়। এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় আমরা এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেই না। মনে করি, হয়তো ঠিকমতো ঘুম হয়নি বা কাজের চাপ বেশি। কিন্তু নিয়মিত যদি দুপুরের পর ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, চোখ লাল হয়, নাক বন্ধ থাকে বা সব সময় ক্লান্ত লাগে। তাহলে বুঝতে হবে, এর পেছনে অফিসের পরিবেশের ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন, ডেস্কে ছোট একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা কিছুটা বাড়ে। অফিসে ঢোকার আগে ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ডেস্কে ছোট গাছ রাখা যেতে পারে, যা বাতাস কিছুটা পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।

এর পাশাপাশি প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ৫-১০ মিনিটের জন্য বাইরে গিয়ে খোলা বাতাসে দাঁড়ানো ভালো। এতে শরীর ও মন, দুটোই সতেজ থাকে। আর নিয়মিত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ব্যস্ততায় পানি খেতে ভুলে যান, যা ত্বক আরও শুষ্ক করে তোলে।

অফিসের ভেতরে বসার জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করুন প্রিন্টার বা এসির ভেন্টের একেবারে কাছে না বসতে। এতে দূষিত কণার সংস্পর্শ কিছুটা কমে।

অফিসের পরিবেশ আমাদের কাজের জন্য তৈরি। কিন্তু সব সময় আমাদের শরীরের জন্য উপযোগী নয়। তাই নিজের যত্ন নিজেকেই নিতে হবে। ছোট কিছু পরিবর্তন, একটু সচেতনতা, নিয়মিত পানি পান, আর ত্বকের যত্ন নিন। এসব অভ্যাসই আপনার ত্বক ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Read more — ফিচার
← Home