জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি

-
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দেশে এই মুহূর্তে কত তেল আছে এবং তা দিয়ে কতদিন চলবে এমন প্রশ্ন ঘুরেফিরেই সামনে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকার দাবি করা হলেও ‘তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে’এমন শঙ্কা থেকে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের লাইন। জ্বালানি তেল নিয়ে গ্রাহক-বিক্রেতা বাকবিতণ্ডা কিংবা সংঘাতের অভিযোগ যেমন আসছে, তেমনি অবৈধ মজুত ঠেকাতে চালানো হচ্ছে অভিযানও। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে গোটা দেশে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণই বেশি। এছাড়া অল্প পরিমাণ অকটেন আমদানি করা হলেও চাহিদার বড় অংশ দেশেই উৎপাদন হয়। বড় অংশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ আমদানির ওপরই নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বড় ভরসা। এছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকেও বাংলাদেশে ডিজেল আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের রিজার্ভ সক্ষমতা অনুযায়ী বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদার পুরোটা একসাথে মজুত করার সুযোগ নেই। মূলত চাহিদার নিরিখে নিয়মিতভাবে চালান আসে, ব্যবহার হয়- এভাবে চক্রাকারে চলতে থাকে। দেশে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কৃষি সেচ মৌসুম। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) হিসাবে, এ সময় শুধু সেচযন্ত্রে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় সাত লাখ ৬০ হাজার টন। কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় বাজারে এমন সব ক্রেতার কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেন, যাদের কোনো লাইসেন্স থাকে না। কিন্তু এখন যখন দেশের নানা স্থানে তেলের মজুদ ধরা পড়ছে, তখন এসব বিক্রেতা ভয়ে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে কৃষকরা আর স্থানীয় দোকান থেকে তেল কিনতে পারছেন না। এ সঙ্কট ঘিরে তেলের পাম্পে কৃষকদেরও ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। ইসরাইল বাদ দিলে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো দেশের সাথে বাংলাদেশের চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে জ্বালানিনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে লাগোনোর কোনো উদ্যোগ না থাকা বিস্ময়কর। বিগত দেড় যুগের সীমাহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে এমনিতেই দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় জ্বালানিমূল্যের উল্লম্ফন এবং অনিশ্চয়তা সামষ্টিক অর্থনীতি, উৎপাদন ব্যবস্থা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা ভর করেছে। জ্বালানি খাত দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। বিদ্যুৎ, গণপরিবহন, শিল্প-কারখানা, রফতানি বাণিজ্য, কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা জ্বালানির সহজলভ্যতা ও অবাধ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। ইরান যুদ্ধে ইসরাইল-আমেরিকা সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং তেল শোধনাগারগুলো আরো আক্রমণের শিকার হলে সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামবে। তাই সংকট উত্তরণে সরকারকে হতে হবে আরো কঠোর।

Read more — সম্পাদকীয়
← Home