সোয়া চার লিটার তেল সংগ্রহে আসতে পুড়ছে এক লিটার

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সোয়া চার লিটার তেল সংগ্রহে আসতে পুড়ছে এক লিটার

‘২০ কিলোমিটার দূর থেকে তেল নিতে এসেছি। তেল পাবো ৫০০ টাকার। আমার আসা-যাওয়াতেই একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকা তেল পুড়বে। তাহলে কী অবশিষ্ট থাকলো?’ এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন সদর উপজেলার দেবীনগরের স্কুল শিক্ষক আবু রুবিয়ান।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী দেবীনগর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রাম থেকে তিনি শহরের একটি পেট্রলপাম্পে এসেছেন মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানী তেল সংগ্রহে। ওই ইউনিয়নে নেই কোন ফিলিং স্টেশন। শুধু দেবীনগরই নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের আটটি ইউনিয়নে আজও গড়ে ওঠেনি কোন ফিলিং স্টেশন। যানবাহনের তেল সংগ্রহে ওই এলাকার মানুষদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে খোলাবাজারে জ্বালানী তেল বিক্রি হতো সদর উপজেলার আলাতুলী, চরঅনুপনগর, দেবীনগর, চরবাগডাঙ্গা, ইসলামপুর, নারায়ণপুর, শাহজাহানপুর ও সুন্দরপুর ইউনিয়নে। সেখান থেকেই চাহিদামতো তেল সংগ্রহ করতে পারতেন ভোক্তারা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানী সংকটের কারণে প্রশাসনের নির্দেশনায় খোলা বাজারে তেল বিক্রি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোর বাসিন্দাদের ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ফিলিং স্টেশন গিয়ে জ্বালানী তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। 

আবু রুবিয়ান বলছিলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্পগুলোতে একবারে ৫০০ টাকার বেশি জ্বালানী তেল দিচ্ছে না। আবার একবার তেল নিলে পরবর্তী ৫ দিন আর তেল নেয়া যাবেনা। কিন্তু আমাদের চরাঞ্চলের মানুষরা কী করবে? আমাদের জন্য যদি বিশেষ কোন ব্যবস্থা থাকতো, অন্তত: আমাদের যদি এক হাজার টাকার তেল দেয়া হতো।’

শাহজাহানপুরের ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ওই অঞ্চলের সবাই এভাবেই কষ্ট করে তেল সংগ্রহ করছে। অনেকে আবার তেল সংগ্রহের ভোগান্তি এড়াতে মোটরসাইকেল চালানোই বন্ধ করে দিয়েছে। আমিও আমার মোটরসাইকেলটি ৬ দিন বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু জীবিকার তাগিদে তো খুব বেশিদিন বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। 

তিনি বলেন, ‘এখন বাজে সাড়ে ৪ টা, সেই সকাল সাড়ে ১০ টার আগে থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেল পেতে আরও একঘণ্টা সময় লাগবে। তেল নিতে এসেই আমাদের পুরা একটা দিন নষ্ট হচ্ছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানী তেল বিক্রি করা হচ্ছে। একজন গ্রাহক ৫ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার সমপরিমাণ তেল নিতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির কারণে অনেকটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। একই মোটরসাইকেল নিয়ে একাধিকবার তেল সংগ্রহের সুযোগ বা অপচেষ্টা বন্ধ গয়ে গেছে। এতে পেট্রোল পাম্পের যারা কর্মরত আছেন এবং যারা বৈধভাবে তেল সংগ্রহে আসছে উভয়েই স্বস্তি প্রকাশ করেছে। 

তিনি বলেন, সবার জন্য একই নিয়মে তেল বিক্রি করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও খোলাবাজারে বা কালোবাজারে তেল বিক্রির ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। 

Read more — স্থানীয়
← Home