কখনো কী শুনেছেন আমের নাম ‘কুশপাহাড়ী’ বা ‘জিলাপিফ্যাড়া’

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
১৮ জুন ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
কখনো কী শুনেছেন আমের নাম ‘কুশপাহাড়ী’ বা ‘জিলাপিফ্যাড়া’

কখনো কী শুনেছেন আমের নাম কুশপাহাড়ী বা মোহনবাঁশি। অথবা জিলাপিফ্যাড়া, তোতাপুরি, জাদুজেম, শরবতি, আরিয়া, তুজাহারি। এসব জাতের আম উৎপাদন হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জেই। যারা কখনোই এসব জাতের আমের নামই শোনেন নি, তারা নিজের চোখে দেখে আসতে পারেন ‘আম মেলায়’ গিয়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের ‘আম মেলা’। এ দিন বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা মেলার বিভন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। 

মেলায় সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে ‘আমের জাত প্রদর্শনী’ স্টলে। এই স্টলের প্রদর্শন করা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত ১৮৩ জাতের আম। এরমধ্যে আরও রয়েছে- ঊষাপন্নি, কেইট, কিউজাই, দিলসাদ, ছাব্বিশ হাজারী গুটি, চাষা বুলি, ব্রুনাই কিং, আরা জনি, E2R2, ময়না, ডকমাই, জামাই মুশি, হানিডিউ, মাল্ডি, চ্যাংগাই, বারি-১১, কিং অফ চাকাপাত, ইলামতি, আপেল ম্যাংগো, বানানা, রেড পলমার, চাকাপাত, স্প্যামি, রেড আইভরি, সুরমা গুটি, অস্টিন, রূপা গুটি, মান্নান গুটি, আলফাংস, দুধসর, সুইট কাটিমন, শালদা গুটি, ঝিকুড়ি গুটি জাতের আম।

আয়োজকরা বলছেন- মেলায় প্রদর্শিত এসব আমের স্বাদ, রঙ ও আকার সবই ভিন্ন ভিন্ন। আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক সময় এসব আম সচরাচর দেখা মিললেও এখন প্রায় বিলুপ্ত। এমন অচেনা নাম ও জাতের আম থাকায় মেলা ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

প্রথম দিনেই মেলা ঘুরে দেখেছেন কলেক্টরেট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী একেএম ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, এত জাতের আম উৎপাদন হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে তা আগে জানতাম না। মেলায় এসেই দেখলাম। এই জাতগুলোকে সংরক্ষণ করা উচিত। একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাফির বিন তৌফিক ইমাম বলেন, আম মেলার সৌন্দর্যই বেড়ে গেছে এত জাতের আম প্রদর্শনীর কারণে। আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখেছি সব আম। 

শুধু শিক্ষার্থীই নয়, বড়রাও আগ্রহ নিয়ে দেখছেন বাহারি জাতের আম। শহরের আরামবাগ এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ হয়ে কখনো এত জাতের আম দেখিনি। এমনকি এত জাতের যে আম হয় সেটাই জানতাম না। এগুলো আমাদের সম্পদ। সব জাত সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, মেলায় ১৮৩ জাতের যে আম প্রদর্শন করা হয়েছে তা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আনাচে-কানাচে থাকা বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব জাতের মধ্যে কিছু বিদেশি জাত রয়েছে। তবে বেশিরভাগই দেশী জাত। আমকে ঘিরে মানুষের আরও আগ্রহ বাড়াতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, এমন মেলা জেলার আমের ব্র্যান্ডি ও আম বাণিজ্য প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

Read more — স্থানীয়
← Home