চৌকা সীমান্তে আবারও বাংলাদেশিদের ‘হুংকার শুনল’ বিএসএফ

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ
চৌকা সীমান্তে আবারও বাংলাদেশিদের ‘হুংকার শুনল’ বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন ঠেকাতে জমায়েত হয়েছিলেন কয়েকশ’ বাংলাদেশি গ্রামবাসী। তাদের কণ্ঠে একটাই দাবি ছিলো ‘অবৈধ পুশ ইন চলবে না’। অবশেষে পিছু হটে বিএসএফ, ফিরিয়ে নেয় ২০ নারী, শিশু ও পুরুষকে। শনিবার আবারও চৌকা সীমান্ত অসীম সাহসের সাক্ষী হয়ে থাকলো বাংলার দামাল ছেলেরা।  

এর আগে শুক্রবার রাতে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ১১ জন নারী, চারজন শিশু ও পাঁচজন পুরুষ ছিলেন। পরে বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয় তারা। 

বিজিবির ৫৯ ব্যাটায়িলনের অধিনায়ক  লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুশ ইন নিয়ে সকালে বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির কোম্পানী কমাণ্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পর বেলা বেলা ১২ টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ২০ জনকে ফিরিয়ে নেন। সীমান্তের ১৭৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে তাদের ফিরিয়ে নেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, পতাকা বৈঠকে অবৈধ পুশ ইন নিয়ে বিএসএফকে কড়া বার্তা দিয়েছে বিজিবি। 

এদিকে বিএসএফের পুশ ইন ঠেকাতে চৌকা সীমান্তে জড়ো হয় শত শত গ্রামবাসী। তারা পুশ ইন বিরোধী নানান স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুরো সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ছিলেন চৌকা গ্রামের ইকবাল হোসেন টিয়া। তিনি বলেন, আমরা এসেছি আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। বিএসএফ কেন এভাবে মানুষদের পাঠাবে বাংলাদেশে। আমরা বিএসএফের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড মেনে নেব না। জহুরুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, আমরা সকাল থেকে সীমান্তে রয়েছি। যতক্ষণ না বিএসএফ সদস্যরা ওই ২০ জনকে না নিয়ে যাবে, আমরা সীমান্ত থেকে সরবো না। পরে অবশ্য বিএসএফ ২০ জনকে ফিরিয়ে নেয়ার পর সরে যান গ্রামবাসী। 

এই চৌকা সীমান্তেই ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিএসএফ অনুমতি ছাড়াই কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছিলো। তখনই বিজিবির সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছিলো স্থানীয় বাসিন্দারা। 

বিজিবি অধিনায়ক  লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুশ ইনসহ যে কোন অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। 

 

Read more — স্থানীয়
← Home