গৃহশিক্ষিকা মা মরিয়ম বেগমকে নিয়ে ছেলের আবেগঘন পোস্ট

আমার মায়ের জীবনের দাম কি ৭৫০০ টাকা?

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
২২ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ণ
গৃহশিক্ষিকা মা মরিয়ম বেগমকে নিয়ে ছেলের আবেগঘন পোস্ট
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নামোশঙ্করবাটি চৌকাপাড়া থেকে গত মঙ্গলবার গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছাত্রীর মা সুমাইয়া আক্তার সুমি তাকে কাঠের বাটাল দিয়ে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরইমধ্যে সুমাইয়া আক্তার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সুমি চৌকাপাড়ার মো. রুবেল হোসেনের স্ত্রী। পুলিশ রুবেল হোসেন ও তার বাবা আনোয়ার হোসেনকেও গ্রেপ্তার করেছে। 

ওই ঘটনায় হত্যা মামলা করেন মরিয়ম বেগমের ছোট ছেলে মোবারক হোসেন। মামলার পর বৃহস্পতিবার মাকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন ফেসবুকে। 

কোন রকম সম্পাদনা ছাড়াই চাঁপাই লাইভ’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সেই ফেসবুক পোস্টটি-

-

“মা” শব্দটাই আমার জীবন থেকে চিরতরে মুছে গেল। গত সোমবার সকালে আমার মা, মরিয়ম বেগম, প্রতিদিনের মতো কপালে একটুখানি চিন্তার ভাঁজ আর মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। উনি তো কোনো বিলাসিতা করতে যাননি, বিভিন্ন বাসায় গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়িয়ে সৎ পথে আমাদের বড় করেছেন, সংসারের হাল ধরেছেন কিন্তু সেই চেনা ছাত্রীর বাড়িটাই যে আমার মায়ের জন্য কসাইখানা হয়ে উঠবে, তা আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি, সোমবার রাতে যখন মা ফিরছিলেন না, আমি যখন পাগল হয়ে মাকে খুঁজছিলাম তখন আমার খালা রুবেল আর সুমির (খুনি) বাসায় গিয়েছিলেন , তারা কত ঠান্ডা মাথায় চোখে চোখ  রেখে আমার  খালাকে  বলেছিলো উনি অনেক আগেই চলে গেছেন।  অথচ হয়তো তখনো ঘরের এক কোণে আমার মায়ের রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত দেহটা বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে ছিল । সামান্য কয়েক হাজার টাকার স্বর্ণের দুলের জন্য তারা মায়ের মাথা ও ঠোঁটে ক্রমাগত আঘাত করে তাকে মেরে ফেলেছে, টান দিয়ে কানটা ছিঁড়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে যখন পুলিশ সেই ঘর থেকে মায়ের বস্তাবন্দি নিথর দেহটা বের করল, আমার কলিজাটা ছিঁড়ে গেছে । মাত্র ৭৫০০ টাকায় মায়ের কান ছেঁড়া দুল দুটি তারা বিক্রি করে দিয়েছিল ! আমার মায়ের জীবনের দাম কি মাত্র ৭৫০০ টাকা ? আজ যদি আমার মা গৃহশিক্ষক হয়েও ছাত্রের বাড়িতে নিরাপদ না থাকেন, তবে এই সমাজে কোনো মা নিরাপদ নন।পুলিশ খুনি দম্পতি এবং জড়িত স্বর্ণকারকে গ্রেপ্তার করেছে । কিন্তু আমার মায়ের রক্ত এখনো শুকায়নি। একজন সন্তান হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সুপারের কাছে আমার স্পষ্ট দাবি:

১. কোনো রকম প্রভাবশালী তদবির বা আপসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

২. অবিলম্বে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করতে হবে।

৩. এই ঠান্ডা মাথার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

আমি প্রশাসনের কাছে কোনো সান্ত্বনা চাই না, আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। এই কাপুরুষ খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) দিতে হবে।

Read more — স্থানীয়
← Home