চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল রুপির হোতা কে এই ‘খান সাহেব’?

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল রুপির হোতা কে এই ‘খান সাহেব’?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আরামবাগ-বালুবাগান এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার মূল্যমানের ভারতীয় রুপির জাল নোট জব্দ করেছে র‌্যাব। শনিবার রাতে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার হয় জাল নোট তৈরির বিভিন্ন উপকরণও।

অভিযানের সময় জাল রুপি তৈরির মূল হোতা ‘খান সাহেব’কে পায়নি র‌্যাব। তবে তার নিয়েজিত দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে তসিকুল ইসলাম ও নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মন্দিমোড় এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে শামীম আলী।

র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে- ‘খান সাহেব’ জাল মুদ্রা তৈরির আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জাল মুদ্রা তৈরি করে আসছেন।

রোববার সকালে বালুবাগানের যে বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব সেখানে গিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের দাবি- খান সাহেবকে খুব কমই দেখা যেত। তিনি গোপনীয়তা রক্ষা করে চলতেন। বাড়িটি তিনতলা হলেও দোতলায় গড়ে তোলা হয়েছিলো জাল মুদ্রা তৈরির কারখানা। সেখানেই সব উপকরণ রাখা হয়। তবে মাঝে মধ্যে বাড়ির আশেপাশে কাগজের টুকরা পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে স্থানীয়রা বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেন নি। বাড়ির কলাপসিবল গেট বেশিরভাগ সময়ই তালাবদ্ধ রাখা হতো।

অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার হোসেন মাহমুদ। তিনি বলেন, খান সাহেবের পুরো নাম মোহাম্মদ খান সাহেব। তিনি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা এলাকার মোহাম্মদ হোসেন আলী ও মোসাম্মৎ আছিয়া বেগমের ছেলে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছর ধরেই খান সাহেব জাল মুদ্রা তৈরির কারবারের সঙ্গে জড়িত। মূলত তিনি ভারতীয় রুপির জাল নোট তৈরি করতেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাড়িটিতে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলছিল জাল রুপি তৈরির কাজ। ওই বাড়িটি খান সাহেব ভাড়া নেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন মাহমুদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে খান সাহেব জাল মুদ্রা তৈরির আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত। বিশাল ওই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন খান সাহেব। আর বাড়ি ভাড়া নিয়ে দক্ষ লোক এনে তৈরি করতেন জাল মুদ্রা। বালু বাগানের ওই বাড়িটিও খান সাহেব ভাড়া নিয়েছিলেন।

এর আগে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়েছিলো কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, মামলার কোন রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এমনকি এর আগে তার গ্রেপ্তার হওয়ার কোন তথ্য নেই র‌্যাবের কাছে। তবে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।

Read more — স্থানীয়
← Home