‘অসময়ে অতিবৃষ্টি’ অজুহাতে দায় এড়াচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জলাবদ্ধ শহরে দুর্বিষহ রাত

লাইভ রিপোর্ট
১ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫১ অপরাহ্ণ
‘অসময়ে অতিবৃষ্টি’ অজুহাতে দায় এড়াচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ?
ছবি: সংগৃহীত

রাতভর অবিরত বৃষ্টি। শহরজুড়ে থৈ থৈ পানি। শুক্রবার এক দুর্বিষহ রাত কাটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরবাসীর। বেশ কিছু এলাকায় নির্ঘুম রাত কেটেছে। কারণ বাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি। খাট-বিছানা ভিজে গেছে। শোয়ার জায়গাটুকুও নেই। শহরবাসীর এমন দুর্বিষহ রাতের জন্য কেবলই কী অসময়ে অতিবৃষ্টি দায়ী?

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবহাওয়া অফিস নেই। তবে বৃষ্টিপাতের তথ্য সংগ্রহ করে কৃষি বিভাগ। তাদের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৮ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত সদর উপজেলাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৬০ মিলিমিটার। গত ১০ বছরের এক রাতে এমন বৃষ্টিপাতের রেকর্ড আর নেই। ঋতুকাল অনুযায়ী বর্ষা শেষ হয়েছে আড়াই মাস আগে। হেমন্তে এসে এমন বৃষ্টি অপ্রত্যাশিতই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আবাসিক এলাকা বালুবাগান, ভেলুর মোড়, নিউ ইসলামপুর, পাঠানপাড়া, হুজরাপুর, বেলেপুকুর, আলীনগর, কল্যাণপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে যায়। এসব এলাকার মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ছিলো শুক্রবার রাতে। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে নিউ ইসলামপুরের একটি বাড়ির নিচতলায় থাকেন ব্যাংক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। বারবার বাড়ির প্রধান দরজা খুলে দেখেছেন পানির স্তর কতটা বাড়লো। সারারাত একটুও ঘুমাননি তিনি। তিনি বলেন, শেষ রাতে বাড়িতে পানি ঢুকে যায়। মিস্ত্রিপাড়ার আসকান আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রাত ১০ টার পরেই পানি ঢুকে যায়। বাড়ির সব আসবাবপত্র, বিছানা ভিজে যায়। সারারাত নির্ঘুম কাটে তাঁর। তিনি বলেন, এই এলাকাকে ভাড়া আসার পর থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাঁদের। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বেলেপুকুর এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যাতেও পানি নেমে যায়নি।

বাসাবাড়ি ছাড়াও শহরের বেশ কিছু এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে যায়। ক্লাব সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, কাল তো অনেক বৃষ্টি হয়েছে। মার্কেটে পানি তো ঢুকবেই। অন্য সময় এরচেয়ে কম বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় মার্কেট এলাকা।  

শহরে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ড্রেন নির্মাণের কাজ। নির্মাণ কাজের কারণে ড্রেনের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন বলেন, নির্মাণকাজ চলামান থাকায় বর্তমানে ড্রেন দিয়ে পানি নেমে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এছাড়াও রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না। প্রচুর বৃষ্টির কারণে শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের যে ড্রেন নির্মাণের কাজ হচ্ছে, আমরা ঠিকাদারদের বলেছিলাম দ্রুত কাজ শেষ করতে। তারাও চেষ্টা করছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব এলোমেলো হয়ে গেলো। 

ইমরান হোসাইনের কাছে প্রশ্ন ছিলো শহরে যে ড্রেন নির্মিত হচ্ছে, এটির কাজ শেষ হলে কী জলাবদ্ধতার নিরসন হবে? তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার সমস্যা খুব একটা যে নিরসন হবে তা বলা যাবে না। যে ড্রেনগুলো নির্মিত হচ্ছে সেগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেলে শহর থেকে বৃষ্টি পানিটা নামবে কিন্তু সময় লাগবেই। এখন যেখানে ২৪ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে পানি নেমে যেতে, সেটা হয়তো ১০ ঘণ্টা বা ১২ ঘণ্টায় নেমে যাবে। 

তবে অসময়ে বৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির অজুহাত দিয়ে পৌরসভার দায় এড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির। চাঁপাই লাইভকে তিনি বলেন, পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কখনোই পৌরসভার সুপরিকল্পনা ছিলো না। বিচ্ছিন্নভাবে এখানে-ওখানে ড্রেন নির্মাণের কাজ করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রয়োজন মাস্টারপ্ল্যান। আমরা মাস্টারপ্ল্যানের কথা শুনি কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন দেখিনা। তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে সব এলাকার ড্রেন ভেঙ্গে নির্মাণকাজ করা নির্বুদ্ধিতা। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন নির্বুদ্ধিতার কারণেই শুক্রবার রাত দুর্বিষহ কেটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরবাসীর। 

 

Read more — স্থানীয়
← Home