চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধান চাষাবাদ করে ঋণের বোঝা বাড়ল কৃষকের

লাইভ রিপোর্ট
৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০১ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধান চাষাবাদ করে ঋণের বোঝা বাড়ল কৃষকের

দোকান থেকে বাকীতে সার-বীজসহ অন্যান্য উপকরণ নিয়ে এবার আমন ধান আবাদ করেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হোসেনডাইং এলাকার মনিরুল ইসলাম। কয়েকদিন পরেই শুরু করতেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কিন্তু বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে সেই ধান। এখন লাভ তো দুরের কথা, দোকানের বাকী কিভাবে পরিশোধ করবেন সেই দুশ্চিন্তার ছাপ চোখেমুখে। 

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আমন ধান চাষ করে ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেলো আমাদের। দুই বিঘা জমিতে আমন চাষের সব উপকরণ বাকীতে কিনেছি। বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ার পর যে ধান পাবো তা জমির মালিককেই দেয়া যাবে না।’ 

মনিরুল ইসলাম অন্যের দুই বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ করেছিলেন। জমির মালিককে ধান দিতে হবে ১৬ মণ। অথচ বৃষ্টির পরে ধানগাছের যে অবস্থা তাতে সবমিলিয়ে ২০ মণ ধান পাওয়া যাবে কি-না সন্দেহ আছে। ধান কাটার জন্য আবার শ্রমিককে পারিশ্রমিক দিতে হবে। গত শুক্রবার রাতে নজিরবিহনীন বৃষ্টির পর এখন খেত থেকে পানি নেমে গেছে। স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতি।

শুধু মনিরুল ইসলামই নয়, তার মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েক হাজার কৃষকের এখন একই দুশ্চিন্তা। নভেম্বর মাসে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে ধান ও অন্যান্য ফসল। এসব ফসল চাষের জন্য বেশিরভাগ কৃষককেই কৃষি উপকরণের দোকানে অর্থ বাকী রাখতে হয়। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের টাকা শোধ করা সম্ভব হবে না তাদের।

তারা বলছেন, ঋণ করে ধান চাষ করে ঋণের বোঝা আরও বাড়ল তাদের। হোসেনডাইংয়ের আরেক চাষীর আবু বাক্কার বলেন, ধান নষ্ট হয়ে যাওয়া খাওয়ার জন্যও আমাদের এখন ঋণ করতে হবে। চাষাবাদের জন্য দোকানে বাকী তো আছেই। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে চাষাবাদ করি। গত শুক্রবার যে বৃষ্টি হয়েছে এমন বৃষ্টি আর দেখিনি জীবনে। 

আমন ধান চাষী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ৮ হাজার টাকা দোকানে বাকী রয়েছে। এবার ধান তুলে একটাকাও শোধ করতে পারবো না। আবার চাষাবাদের জন্য বাকীতে সার-বীজ ও কীটনাশক কিনতে হবে। এবারের ক্ষতির জের টানতে হবে পরের মৌসুমেও।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত জেলায় গড়ে ১৯১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং নজিরবিহীন। কারণ সাধারণত মধ্য কার্তিক মাসে এসে বৃষ্টিপাত হয়না বললেই চলে। বৃষ্টিতে জেলার ৪ হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরবর্তীতে এসব কৃষককে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পরে আমরা আবার মাঠ জরিপ করে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এই রিপোর্ট পাঠাবো। সেখানে কত জমির ফসল পুরোপুরি ও কত জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। এরপর সরকারি যদি তাদের পুরর্বাসনে কর্মসূচি আসে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে তা বিতরণ করবো।

 

Read more — স্থানীয়
← Home