চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া সংবাদের ফটোকার্ড ছড়াচ্ছে ফেসবুকে

সংবাদিকদের উদ্বেগ

লাইভ রিপোর্ট
১০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া সংবাদের ফটোকার্ড ছড়াচ্ছে ফেসবুকে

কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে যমুনা টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড। যার শিরোনাম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে একই গ্রামে তিনশ বিএনপিকর্মীর জামায়াতে যোগদান’। একইভাবে ছড়িয়ে পড়েছে একাত্তর টিভির আরেকটি ফটোকার্ড, যার শিরোনাম ‘বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ও ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী’। ফেসবুকে চাঁপাইনবাবগঞ্জভিত্তিক বেশ কিছু গ্রুপে এমনকি ফেসবুক পেইজ ও আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়ে ফটোকার্ডগুলো। কিন্তু পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেগুলো ভুয়া ফটোকার্ড। 

এরপর তথ্যানুসন্ধান শুরু করে চাঁপাই লাইভ ফ্যাক্টচেক টিম। অনুসন্ধানে ভয়াবহ তথ্য পায় ফ্যাক্টচেক টিম। গত দশ দিনে (১ থেকে ১০ নভেম্বর) ২৯টি ভুয়া ফটোকার্ড খুঁজে পায় ফ্যাক্টচেক টিম, যেগুলোতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিরোনাম দেয়া রয়েছে।

এই ভুয়া ফটোকার্ডগুলোর বেশিরভাগই দৈনিক জনকণ্ঠ’র নামে এবং জনকণ্ঠের ফটোকার্ডের ডিজাইন অনুকরণ করে বানানো হয়েছে। যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক জনকণ্ঠ ছাড়াও দৈনিক কালের কণ্ঠ, আমার দেশ, একাত্তর টিভির নামে ভুয়া ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ফেসবুকে।

ফেসবুকে যেসব আইডি বা পেইজ থেকে ফটোকার্ডগুলো ছাড়ানো হয়েছে তার বেশিরভাগই ছদ্মনাম ব্যবহার করে। আবার কিছু গ্রুপে ফটোকার্ডগুলো যে আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে আইডি’র নাম প্রকাশ করা হয়নি। গ্রুপগুলোতে বেনামী বা anonymous participation অপশন ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে করে পোস্টকারীর পরিচয় জানতে না পারে গ্রুপের সদস্যরা। ফেসবুক আইডি, পেইজ বা গ্রুপে যে ফটোকার্ডগুলো শেয়ার করা হচ্ছে সেখানে বিস্তারিত নিউজ বা কোন সংবাদমাধ্যমের লিঙ্ক থাকছে না। শুধুমাত্র শিরোনাম দিয়ে বানানো ফটোকার্ড শেয়ার করা হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সবগুলো ফটোকার্ডে যে শিরোনাম দেয়া হয়েছে তা রাজনৈতিক।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এটি জেলার সাংবাদিকতার জন্য একটা বড় অশনি সংকেত। এসব ভুয়া ফটোকার্ড যেমন মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তেমনি জেলার সাংবাদিকদের প্রতি এক ধরণের নেতিবাচক ধারণা বা অনাস্থা তৈরি হচ্ছে জেলাবাসীর। যেহেতু বেশিরভাগ ফটোকার্ডে রাজনৈতিক শিরোনাম দেয়া হয়েছে, সেহেতু এর পেছনে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও থাকতে পারে। আমরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করবো, নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করার জন্য। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, এই তথ্যপ্রযুক্তির সময়ে পাঠকদের সচেতন হতে হবে। ফেসবুকের কোন ফটোকার্ড দেখলেই যেন সেটা দেদারসে শেয়ার না করেন তারা। সংবাদটি সত্য কী-না, বা সংবাদটি আদৌ মূল গণমাধ্যমের কী-না তা যাচাই করে সেটি শেয়ার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমগুলোতে ফটোকার্ডের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ এই ফটোকার্ডগুলো সহজেই সবাই কপি করতে পারছে এবং এগুলো ব্যবহার করে গুজব ছাড়াচ্ছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলম বলেন, ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা। আমরা এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা জেলাবাসীকে সত্য-সঠিক সংবাদ জানাতে বদ্ধপরিকর। এতে যারা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন আমরা সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করবো। এছাড়াও আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অনুসন্ধান করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ভুয়া সংবাদের ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ার বেশ কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কেউ কেউ জিডিও করেছেন। আমার তাদের জিডির সূত্র ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়াও আমাদের সাইবার টিম এগুলো নিয়ে কাজ করছে। এসব ভুয়া সংবাদ বা গুজবকে ঘিরে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

Read more — স্থানীয়
← Home