ই-ভ্যালি মডেলে জেসমিনের ব্যবসা, প্রতারণার আশঙ্কা ইউপি চেয়ারম্যানের

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ণ
ই-ভ্যালি মডেলে জেসমিনের ব্যবসা, প্রতারণার আশঙ্কা ইউপি চেয়ারম্যানের

পাঁচ হাজার টাকা দিলে মিলবে এক ধরণের বিশেষ কার্ড। এর তিন মাস পর মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে নেয়া যাবে ৩০ কেজি চাল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের এমনই এক অভিনব ব্যবসা গড়ে তুলেছেন জেসমিন বেগম নামে এক নারী। তবে ‘ই-ভ্যালি’ মডেলে গড়ে তোলা ওই ব্যবসা নিয়ে প্রতারণার আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- দেশের বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালি যেভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য বিক্রি করত একই পদ্ধতিতে ব্যবসা করছেন জেসমিন খাতুন। ফলে যে কোন সময় তিনি গ্রাহকদের বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। 

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল লতিফ বলেন, প্রায় এক বছর আগে ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মুদিখানা ও চটপটির দোকান পরিচালনার জন্য ‘মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স’ নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেন মোসা. জেসমিন বেগম। তিনি একই উপজেলার জাবড়ি-কাজীপাড়ার বাসিন্দা। পরে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বিভিন্ন সেবার কার্ডের আদলে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে কার্ড তৈরি করেন। এর মধ্যে কিছু কার্ডের বিনিময়ে গ্রাহকদের কমমূল্যে নিত্যপণ্য সরবারহ করেন। এছাড়াও কিছু কার্ড গ্রহণকারীকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাও প্রদান করা হয়। এসব কার্ড নিতে গ্রাহকদের ৫ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এরইমধ্যে ইউয়িনের ১৫ হাজার গ্রাহক তৈরি করেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি। এসব গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা দিয়ে সদস্য হওয়ার পর একজন কার্ড গ্রহীতা প্রতিমাসে মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ কেজি চাল নিতে পারবেন। আবার ১৫ হাজার টাকা দিয়ে সাব-মারসিবল পানির পাম্প নিতে পারবেন। সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে মাসকুরা ট্রেডার্স যে পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। এতে গ্রাহকরা প্রতারিত হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে গত ৬ এপ্রিল তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয় জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকটি দপ্তরেও।

মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মোসা. জেসমিন বেগম জানান, গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া টাকা ব্যাংকে রেখে একটা লভ্যাংশ পাওয়া যায়। অন্যদিকে তিনি চালগুলো কেনেন সরাসরি মিল মালিকদের কাছ থেকে। যে কারণে বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে কিনতে পারেন। সব মিলিয়ে কম দামে চাল দিতে পারেন গ্রাহকদের। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান এখন এটাকে অবৈধ বলছে কিন্তু তার এবং তার স্ত্রীর নামেও কার্ড রয়েছে। তিনি তার ছেলেকে আমার এখানে ম্যানেজার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করছে জেলা প্রশাসনের গঠিত একটি তদন্তদল। তদন্ত শেষেই বোঝা যাবে প্রতিষ্ঠানটি কোন মডেলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং সেটি বৈধ নাকি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Read more — স্থানীয়
← Home