রূপ লাবণ্যে অনন্য হলুদ ম্যান্ডেভিলা

চয়ন বিকাশ ভদ্র
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
রূপ লাবণ্যে অনন্য হলুদ ম্যান্ডেভিলা

প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যে লতাজাতীয় উদ্ভিদগুলোর ভূমিকা অনন্য। সীমানাপ্রাচীর, বারান্দার গ্রিল কিংবা বাগানের মাচায় জড়িয়ে পড়ে এরা চারপাশকে করে তোলে প্রাণবন্ত। এমনই এক দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় বহুবর্ষজীবী লতাজাতীয় গুল্ম হলো হলুদ ম্যান্ডেভিলা। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এর বৈজ্ঞানিক নাম Pentalinon luteum এবং এটি Apocynaceae (ওলিয়েন্ডার) পরিবারের সদস্য। বিশ্বজুড়ে ইংরেজিতে এটি Yellow mandevilla, yellow dipladenia, wild allamanda, hammock viper’s-tail ইত্যাদি নামে পরিচিত। গত ৩০ আগস্ট ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের বাংলাদেশ নার্সারিতে এই উদ্ভিদটির সন্ধান পাই।

জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি ছোট ও ঘন লতানো ঝোপের মতো রূপ নিয়ে বেড়ে ওঠে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর লতাগুলো চারপাশের গাছপালা, ঝোপঝাড়, বাউন্ডারি দেয়াল কিংবা কৃত্রিম কাঠামোর ওপর ভর করে দ্রুত বেয়ে ওঠে ও বিস্তৃত হয়।

এই গাছের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ফুল। দেখতে বহুলাংশে অলকানন্দা, করবী বা কলকি ফুলের মতো হলেও এর রং কিছুটা ভিন্ন–একদম উজ্জ্বল নিয়ন হলুদ। প্রতিটি ফুল চওড়ায় প্রায় দুই থেকে তিন ইঞ্চি হয়ে থাকে। জুন থেকে অক্টোবর মাসের দিকে গাছে প্রচুর ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে অ্যালামান্ডার মতো একই সময়ে গাছজুড়ে অসংখ্য ফুল না ফুটলেও এর কাণ্ডের ডগায় সারা বছর ধরেই কিছু না কিছু ফুল ফুটতে থাকে।

ওলিয়েন্ডার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য উদ্ভিদের মতো হলুদ ম্যান্ডেভিলার সব অংশই বিষাক্ত। এর পাতা, কাণ্ড বা রস স্পর্শ বা গ্রহণ করলে ত্বকে চুলকানি বা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

হলুদ ম্যান্ডেভিলা কেবল একটি সাধারণ লতাই নয়, বরং ল্যান্ডস্কেপিং ও উদ্যান পালনে এর বহুমুখী গুরুত্ব রয়েছে:

বাড়ি বা উদ্যানের সীমানাপ্রাচীর, ট্রেলিস, মাচা ও আর্চ সাজাতে এর লতানো রূপ অসাধারণ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। অনেক গাছে নির্দিষ্ট ঋতুতে ফুল ফুটলেও হলুদ ম্যান্ডেভিলায় সারা বছরই কম-বেশি ফুল থাকে, যা বাগানকে সব সময় প্রাণবন্ত রাখে।

উজ্জ্বল হলুদ রঙের কারণে প্রজাপতি, মৌমাছি ও হামিংবার্ডের মতো পরাগায়নকারী প্রাণীরা এই ফুলের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয়। এটি অপেক্ষাকৃত শক্ত ও খরা-সহনশীল গাছ। একবার মাটিতে শক্তভাবে শিকড় গেড়ে বসলে খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না।

হলুদ ম্যান্ডেভিলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও চারপাশকে বর্ণিল করে তুলতে এক চমৎকার পছন্দ। তবে এর সর্বাঙ্গে বিষাক্ত উপাদান থাকায় বাসাবাড়িতে ছোট শিশু ও গৃহপালিত পশুপাখির নাগালের বাইরে রেখে এটি রোপণ করা বুদ্ধিমত্তার কাজ। প্রকৃতির এই উজ্জ্বল উপহারটি সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেকোনো সবুজ প্রাঙ্গণকে আরও মোহনীয় করে তুলতে পারে।

 

 

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ

Read more — প্রকৃতি ও পরিবেশ
← Home