৪০ বছর ধরে অশান্তি ছড়াচ্ছে রহনপুরের ‘শান্তিপাড়া’

লাইভ রিপোর্ট, গোমস্তাপুর
১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ণ
৪০ বছর ধরে অশান্তি ছড়াচ্ছে রহনপুরের ‘শান্তিপাড়া’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কেডিসিপাড়া গড়ে ওঠে প্রায় ৪০ বছর আগে। এই পাড়াটি শান্তিপাড়া নামেও পরিচিত। এই পাড়াই এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্য। তাই স্থানীয়দের মাঝে এই বস্তিটি উচ্ছেদের দাবি তীব্র হচ্ছে দিনকে-দিন। 

স্থানীয়রা বলছেন-প্রায় ৪০ বছর পুর্বে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠে শান্তিপাড়া বস্তি। এরপর বস্তি ঘিরে গড়ে ওঠে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের স্বর্গরাজ্য। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের নিরাপদ আস্তানা এখন ওই বস্তি। মাদক সেবনের জন্য বাইরে থেকে লোকজন আসে এখানে। এখানকার মাদক ব্যবসায়ীরা এতই ক্ষমতরাধর যে তারা কাউকেই পরোয়া করে না। সম্প্রতি এই বস্তিতে গিয়ে আক্রান্ত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। মাদক ব্যবসায়ীরা তার গাড়ি ভঙচুর করে। 

তাই দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি ছড়ানো এই বস্তি উচ্ছেদে একাট্টা হয়েছেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক  ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সোচ্চার বস্তি উচ্ছেদের দাবিতে। গত মঙ্গলবার বিকেলে রহনপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন আমবাজার চত্বরে বিশাল এক জনসভাও হয়েছে একই দাবিতে। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জনসভা থেকে এলাকায় মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং কেডিসিপাড়া উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়। 

রহনপুর আম আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং মাদক ছিনতাই ও অসামাজিক কার্যকলাপ বিরোধী কমিটি গোমস্তাপুর উপজেলার আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের লোকজনের উপরে হামলা ও ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ ও আরও অজ্ঞাত ৬০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলাম। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের এখনো গ্ৰেপ্তার করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবের কারণে মাদককারবারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। টাকার কাছে সবাই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে, ওই বস্তি (কেডিসিপাড়া) উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। 

রহনপুর রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক নাজমুল হুদা খান রুবেল জানান, রহনপুর রেলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। রহনপুর রেলস্টেশনের চারপাশে রেলওয়ের শতশত বিঘা জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। যা অপসারণ করে রেলবন্দরের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ওই বস্তিতে অপরাধ প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি  ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও ব্যবসায়ীদের মারধরের ঘটনায় থানায় দুটি  মামলা হয়েছে। ওই মামলা দুটিতে এখন পর্যন্ত  ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ওসি আরও বলেন, বস্তি উচ্ছেদের বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। তারা যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো খবর পুলিশের কাছে নেই।

Read more — স্থানীয়
← Home