৬ ঘণ্টায় ২৯৯ রোগীকে চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক

জেলা হাসপাতাল

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় ২৯৯ রোগীকে চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ফাহাদ আকিদ রেহমান ছয় ঘণ্টায় রোগী দেখেছেন ২৯৯ জন। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তার নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় এ বিপুল পরিমাণ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

ফাহাদ আকিদ রেহমান নিজেই তার ফেসবুকে এ তথ্য তুলে ধরেছেন।

তার ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা গেছে- হাসপাতালে রোগী দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিতই তিনি ফেসবুক ফিডে লেখালেখি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। এদিন তিনি লিখেছেন-আজ আউটডোরে (হাসপাতালের বহির্বিভাগ) ২৯৯ জন রোগীকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করলাম৷ প্রতি মিনিটে একজন রোগীর সেবা দিয়ে কাউকে সন্তুষ্ট করাও সম্ভব না৷ আমি নিজেই সন্তুষ্ট না মানে মানসিক পরিতৃপ্তি আসেনা রোগীকে সেবা দিয়ে৷ অথচ আমার সেবা দেয়া উচিত ছিলো ৬ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ জনকে। তাহলে প্রতি ঘণ্টায় ৫ জন রোগী দেখতাম। সবাই (রোগীরা) ১২ মিনিট করে পেতো৷

ছয় ঘণ্টা ধরে বিরতিহীনভাবে ২৯৯ জন রোগী দেখলে, একজন রোগী সময় পেয়েছেন মাত্র ৭২ সেকেন্ড বা এক মিনিট ১২ সেকেন্ড। এ সময়ের মধ্যেই ফাহাদ আকিদ রেহমানকে রোগীর সমস্যা শুনে ব্যবস্থাপত্র লিখতে হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে টেস্টের রিপোর্টও দেখতে হয়েছে। আপতদৃষ্টিতে এটিকে অসম্ভব বলেই মনে হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে এমন অবস্থায় বিরাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ৮৩ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৬ জন। অর্থাৎ হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ শূণ্য রয়েছে ৪৭টি।

অবশ্য ডা. ফাহাদ আকিদ রেহমানের কাছে ছয় ঘণ্টায় ২৯৯ রোগী দেখা নতুন কিছু নয়। নির্ধারিত ওই সময় মধ্যে তিনি এর চেয়েও বেশি রোগীকে সেবা দিয়েছেন হাসপাতালে। তার আরেকটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখা গেছে, গত ৩ অক্টোবর হাসপাতালে ছয় ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের সময় তিনি রোগী দেখেন ৩৫২ জন।

ফাহাদ আকিদ রেহমান বলেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা সব হাসপাতালে করার ব্যবস্থা থাকলে সেখানে করিয়ে রোগীদের ভালো চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়া সম্ভব ছিলো৷ তাহলে হয়তো এত বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকও গড়ে উঠতোনা৷

হাসপাতোলের তত্ত্বাবধায়ক জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, হাসপাতালে ৩৬ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করলেও এদের মধ্যে চারজন প্রেষনে কর্মরত আছেন। চিকিৎসকের পদ পূরণের জন্য প্রতি সপ্তাহেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোন সাড়া মেলেনি।

Read more — স্থানীয়
← Home