জাপানে স্কলারশিপসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিহারিকা দাস

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিনি

লাইভ রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ণ
জাপানে স্কলারশিপসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিহারিকা দাস

জাপানের কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহারিকা দাস। তাঁকে এ স্কলারশিপের জন্য মনোনীত করে জাপানের শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা মেক্সট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার হরিনগর-তাঁতিপাড়ার সুবোধ চন্দ্র দাসের মেনে নিহারিকা দাস। গত ১২ মার্চ তাকে ইমেইলের মাধ্যমে স্কলারশিপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জাপান সরকার বিশ্বের ১৬০ টি দেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেয়। এরমধ্যে মেক্সট স্কলারশিপকে সবচেয়ে খ্যাতনামা আর সম্মানিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই স্কলারশিপ নিয়েই জাপান যাবেন নিহারিকা দাস। তিনি এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’র কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সোমবার দুপুরে নিহারিকা দাসকে সংবর্ধনা দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় ইন্দারা মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল বারী। কৃষি অনুষদের ডীন ড. মো. মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আহসান, সহকারী অধ্যাপক মো. মেহেদি হাসান, সংবর্ধিত শিক্ষার্থী নিহারিকা দাসসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানাতে গিয়ে নিহারিকা দাস বলেন, ‘এই যে স্কলালশিপের জন্য মনোনীত হয়েছি এই খরবটা অত্যন্ত আনন্দদায়ক, কিন্তু এই পথচলাটা সহজ ছিলো না। দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। টানা একটা বছর কঠোর অধ্যাবসায়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি। এ সময় পাড়া-প্রতিবেশীসহ অনেকেই নানান নেতিবাচক কথা বলেছেন। আমি সব নীরবে সহ্য করে প্রস্তুতি নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘জাপানে যাচ্ছি শিক্ষা গ্রহণ করতে, সেই শিক্ষা দেশের প্রয়োজনে কাজে লাগাবো।’ তাঁর স্কলারশিপের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডীন ড. মো: মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমিও ছাত্র জীবনেই মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে জাপানে গিয়েছিলাম। কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার যোগাযোগ পুরনো। আমরা চেষ্টা করছি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যোগাযোগ স্থাপন করতে, যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে উচ্চ শিক্ষার আরও সুযোগ পায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: সফিকুল বারী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের মেধার পরিচয় দিচ্ছে। এই সাফল্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র জাতির জন্য গৌরবের। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসবে এবং জাতীয় অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

Read more — শিক্ষা
← Home